বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন ব্যবস্থায় এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও কাগজবিহীন পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে।
দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি’ কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীদের আর আগের মতো বিভিন্ন সহায়ক নথিপত্র জমা দিতে হবে না। পাশাপাশি কিছু পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট সেবাকে আরও কার্যকর করতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত অনলাইন গণপরামর্শ কার্যক্রম চালানো হবে। এতে সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতারা তাদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন।
নতুন নীতিমালার আওতায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য দুই বছর মেয়াদি ‘এক্সটার্নাল ওয়ার্ক পারমিট’, চাকরি পরিবর্তনের জন্য ‘ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট’, পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ‘ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট’ এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য ‘মিশন’ ও ‘টেম্পোরারি’ ওয়ার্ক পারমিট উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট’ এবং দক্ষ কর্মীদের একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ দিতে ‘পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিট’-এর সুবিধাও রাখা হয়েছে। শিক্ষকতার জন্য ‘প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট’ এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ অনুমতিপত্রের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তরুণদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য ‘জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট’ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট’ চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ ‘ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিট’-এর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ডিজিটাল সংস্কার বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং আমিরাতের শ্রমবাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও কর্মীবান্ধব করে তুলবে।




Comments