Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে একটি সুপারট্যাংকার। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী জাহাজটি মে মাসের শেষ দিকে উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সামুদ্রিক জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপলারের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসের পর ইউরোপমুখী এটিই প্রথম তেলের চালান।

মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘অ্যাডভান্টেজ ভিক্টরি’ নামের সুপারট্যাংকারটি গত ২৭ মে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। শুরুতে জাহাজটির নির্দিষ্ট গন্তব্য প্রকাশ করা না হলেও ৮ জুন এর অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সিগন্যাল থেকে জানা যায়, এটি নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দরের দিকে যাচ্ছে, যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রবন্দর।

ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৭ জুলাই জাহাজটির রটারড্যামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইরাকের বসরা বন্দর থেকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ দুই ধাপে তেল বোঝাই করা হয়। বর্তমানে ট্যাংকারটি মাদাগাস্কারের উপকূলবর্তী জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে ১ মার্চ ‘নিউ ভিশন’ নামের একটি জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করেছিল। এরপর ‘অ্যাডভান্টেজ ভিক্টরি’ই প্রথম ট্যাংকার, যা হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সরাসরি ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০৩টি তেলবাহী ট্যাংকার পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ চালানের গন্তব্য ইউরোপ থেকে সরিয়ে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপমুখী এই নতুন চালান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিতে পারে।