১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, কম বয়সীদের জন্য নির্ধারিত কিছু ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা বন্ধ করা এবং অনলাইন গেমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করা হবে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনাকে ‘অস্ট্রেলিয়া-প্লাস’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যের নতুন পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি জানি, প্রত্যেক বাবা-মা চান তাদের সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠুক।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিশুদের সুরক্ষায় যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র *দ্য সানডে টাইমস*-এর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), থ্রেডস, রেডিট, টুইচ এবং কিকসহ অন্তত ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম থাকবে।
এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করা, অনলাইন কারফিউ চালু করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সরকার পরিচালিত তিন মাসব্যাপী এক জনমত জরিপে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য কঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অনলাইন নিরাপত্তা আন্দোলনের কিছু কর্মী মনে করেন, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এতে কিশোর-কিশোরীরা আরও অনিয়ন্ত্রিত বা ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকতে পারে।
অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রভাবে আত্মহত্যা করা ব্রিটিশ কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শিশুদের মধ্যে মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করতে পারে এবং সমস্যার মূল কারণ সমাধান করবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী বলেছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিশু সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় এখন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অনলাইন নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়েই নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments