Image description

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীনের তৈরি ২০টি অত্যাধুনিক ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় এক নতুন কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনাকে গতিশীল করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারও এই প্রতিরক্ষা নীতি সচল রাখে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে এই চুক্তিটি করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীর বর্তমান বহরে থাকা পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পরিবর্তন করে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই আধুনিক ফাইটার জেটগুলো কেনা হচ্ছে। প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই চুক্তির অর্থ আগামী ১০ বছরের সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ। ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ফাইটার জেটগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্যাকেজের আওতায় লজিস্টিকস, পাইলট ও ক্রু ট্রেনিং এবং উন্নত যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করবে চীন।

বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তার জন্য একে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় বিমান ঘাঁটিগুলোতে এই আধুনিক চীনা ফাইটার জেট মোতায়েন করা হলে তা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা নীতিকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করবে।

জে-১০সিই মূলত একটি ৪.৫ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডারে সজ্জিত, যা একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। এছাড়া বিমানটি চীনের তৈরি দূরপাল্লার বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল ‘পিএল-১৫’ ছুঁড়তে সক্ষম, যা যেকোনো আধুনিক পশ্চিমা বা রুশ বিমানকে আকাশযুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে চীন। সাবমেরিন, ট্যাংক এবং মিসাইল সিস্টেমের পর এবার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চীনের প্রভাব আরও জোরালো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-দিল্লি বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে বেইজিংয়ের সাথে এই মেগা চুক্তি বাংলাদেশের কৌশলগত স্বকীয়তা ও সার্বভৌমত্বের বহিঃপ্রকাশ। যদিও ঢাকা বরাবরই বলে আসছে, এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের আকাশসীমা রক্ষার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

মানবকণ্ঠ/আরআই