কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
রবিবার (২১ জুন) বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার সামনে থেকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে থানা এলাকা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল ও শোডাউন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো আইন প্রয়োগ করা। যদি কেউ প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করছে।”
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “যারা আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে মিছিল করছে, তাদের দ্রুত আটক করুন। অন্যথায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যাবে না।” এসময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি ও কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নাশকতা কিংবা জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বলেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তারা দ্রুত গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।
এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
তবে এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।




Comments