সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রথম অধিবেশন ফলপ্রসূভাবে শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ম্যারাথন বৈঠক শেষে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সব পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপগুলোতে এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। আলোচনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় চলতি সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি (টেকনিক্যাল) পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে কাজ করার জন্য একাধিক উপদল (সাব-গ্রুপ) গঠন করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এড়াতে এবং আগামী ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে উভয় দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে লেবানন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে লেবাননের ভূখণ্ডে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার ব্যাপারেও ঐতিহাসিক সম্মতি এসেছে এই বৈঠকে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে আনতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই আলোচনা বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments