Image description

তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। দেশটিতে অতিরিক্ত গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এক জরুরি বৈঠকের পর জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই তরুণ। তিনি বলেন, “এরা এই সংকটের প্রথম শিকার।” প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দেশজুড়ে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাতটি ছিল ১৯৪৭ সাল থেকে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে উষ্ণ রাত। ওই রাতের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তীব্র গরমে বোর্দো ও পোয়াতিয়েরসহ একাধিক শহরে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির ৫৪টি অঞ্চলে রেড হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

গরমের কারণে বহু স্কুল আগেভাগে বন্ধ বা সময়সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অনেক মানুষ অনুমোদনহীন নদী ও জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই শিশু ও কয়েকজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে-যা তাপপ্রবাহজনিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনকেও প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। স্পেনের কিছু এলাকায়ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের পেছনে রয়েছে ‘ওমেগা ব্লক’ নামের একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি, যা উষ্ণ বাতাসকে দীর্ঘ সময় ধরে একটি অঞ্চলে আটকে রাখে। এর ফলে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চল থেকে গরম বাতাস ইউরোপে প্রবেশ করে তীব্র গরম পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা