স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকার তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে গ্রামবাসীরা নিজেদের গ্রামের নামে নতুন নামকরণের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে ও পরিবারের নামে রাখা ‘দিগন্ত’, ‘সীমান্ত’ ও ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। তবে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ইউনিয়নগুলোর নাম তাদের নিজ নিজ গ্রামের পরিচিত নাম অনুযায়ী রাখার প্রস্তাব দেন।
সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’-এর নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গণশুনানি শুরু হয়। সেখানে ৮টি গ্রামের মোট ১৭ হাজার ৫৫৯ জন বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কেউই নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেননি।
তবে রহবল এলাকার বাসিন্দারা এই গণশুনানিকে প্রত্যাখ্যান করে নিজ এলাকায় পৃথক গণশুনানির দাবি জানান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে আগামীকাল ওই এলাকায় আলাদা গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গণশুনানির দায়িত্বে থাকা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা জানান, মোট ১ হাজার ২০৮টি মতামত পাওয়া গেছে। এসব মতামতের ভিত্তিতে রহবল এলাকায় নতুন করে গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’-এর নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয়রা আটটি এলাকার নাম প্রস্তাব করেন। সেখানে ৮২০ জন প্রস্তাব দিলেও ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের গ্রামের নামকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে মত দিয়েছেন।
‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে ১৩টি গ্রামের মধ্যে বেশিরভাগ প্রস্তাব পড়ে প্রতিমন্ত্রীর গ্রামের নাম ‘বেতগাড়ি’সহ বিভিন্ন স্থানীয় গ্রামের নামে। তবে অল্পসংখ্যক মানুষ ‘মীরবাড়ি’ নাম বহাল রাখার পক্ষে মত দেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন নামে কতটি প্রস্তাব পড়েছে তা এখনো চূড়ান্তভাবে গণনা করা হয়নি। পরবর্তীতে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে রেজুলেশন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘দিগন্ত’, ‘সীমান্ত’ ও ‘মীরবাড়ি’ ইউনিয়নের নাম বাতিল করে স্থানীয় জনগণের মতামত, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




Comments