Image description

কড়া ট্যাকলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা ভেঙে দেওয়ার দায়ে কাতার মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোকে বড় শাস্তি দিয়েছে ফিফা। কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনেকে গুরুতর ইনজুরিতে ফেলার অপরাধে মাদিবোকে ৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বুধবার (২৪ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞার খবর নিশ্চিত করেছে ফিফা।

চলতি ফিফা বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা।

সেই ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় কানাডিয়ানরা। তবে ম্যাচটি ছাপিয়ে সব আলোচনা এখন মাঠের ভেতরের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ফাউলকে কেন্দ্র করে।

খেলার ৫৩ মিনিটে কানাডার ইসমাইল কোনেকে পেছন থেকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও কড়া ট্যাকল করে বসেন আসিম মাদিবো। ট্যাকলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কোনে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন।

রেফারি প্রথমে ফাউলের বাঁশি বাজালেও, ঘটনার তীব্রতা দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। পরে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

এই গুরুতর ফাউলের কারণে মাঠেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসার পর ইসমাইল কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এক্স-রে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনের পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করাতে হওয়ায় তার জন্য এবারের বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ হয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। ফাউলের ধরনকে ‘মারাত্মক রকমের অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে লাল কার্ডের স্বাভাবিক শাস্তির বাইরেও অতিরিক্ত ৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় মাদিবোকে। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কাতারের এই মিডফিল্ডার চাইলে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল কমিটির কাছে আপিল করতে পারবেন।

এদিকে মাঠের সেই বৈরিতা ভুলে মানবিকতার এক অনন্য নজির দেখিয়েছেন আসিম মাদিবো। কোনের সফল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে তাকে দেখতে যান মাদিবো এবং কাতারের ক্রীড়ামন্ত্রী। সেখানে তিনি কোনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।