Image description

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। ধসে পড়া শত শত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনো চলছে মরিয়া তল্লাশি। শুক্রবার (২৬ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিতে আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে এবং অনেক বড় বড় স্থাপনা বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ে। বৃহস্পতিবার দিনভর একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির লা গুয়াইরা রাজ্য। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা স্বজনদের উদ্ধারে খালি হাতেই চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয়রা। একটি ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়া এক কিশোরীর করুণ মৃত্যুর ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। স্থানীয় বাসিন্দা দানি রিজো আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী ও যন্ত্রপাতি দরকার ছিল, কিন্তু সাহায্য পৌঁছানোর আগেই মেয়েটি মারা গেল।’ একই রাজ্যের আরেকটি স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও তিনজনের জীবিত থাকার সংকেত পাওয়া গেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন। সংকটময় এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের সহায়তার পাশাপাশি দুটি যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও মেক্সিকো থেকে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে। পোপ লিও চতুর্দশ প্রাথমিকভাবে এক লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর আগে ১৯৯৭ সালে ভূমিকম্পে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে ২৩৬ জন নিহত হয়েছিল। এবারের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে। এদিকে লা গুয়াইরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর