Image description

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে সংসদ সদস্যসহ ৪৭ জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৮ জুন) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বাগদাদ থেকে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি প্রধান অঙ্গীকার করেন- দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আগে এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ওই সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ‘দুর্নীতির অভিযোগে’ ৪৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্তত তেল মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

রোববার ভোরে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের নেতৃত্বে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন এবং শহরের আরেকটি এলাকায় অভিযান চালায়।

গ্রিন জোনে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস, অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর অবস্থিত। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের অনেকেও সেখানে বসবাস করেন।

স্থানীয় টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত ভিডিওতে ভারী সাঁজোয়া যানসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে গ্রিন জোনে অভিযান চালাতে দেখা যায়। কয়েকটি ভিডিওতে তাদের একটি কম্পাউন্ড এবং একটি বাড়ির ভেতরেও প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

বাগদাদে অবস্থানরত এক কূটনীতিক এএফপিকে বলেন, জাইদির দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ‘ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতির অংশ’ এবং নিজের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এই অভিযান এমন সময় পরিচালিত হলো, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বাগদাদ সফর করছেন। তিনি আগের সরকারগুলোর মতো নতুন ইরাকি সরকারের সঙ্গেও সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন।

দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই মিত্রের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে ইরাক।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, অভিযানটি দুর্নীতিবিরোধী হলেও এটি ‘আরও বৃহৎ একটি অভিযানের’ অংশ। এর লক্ষ্য ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, ডলার ও ইরানি তেল পাচার’ দমন করা। যুক্তরাষ্ট্র এসব ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।