উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ৩টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার, তিস্তা কাউনিয়া পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে দুধকুমার নদীর পানি ৫৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীর মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হয়েছে বসতভিটা ও কৃষিজমি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সবজি ক্ষেতসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কুড়িগ্রামে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণেই জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং দুধকুমার নদী ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি আরও বাড়লে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তিনি জানান, মুড়িয়ারহাট এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সেই অংশ দিয়েই পানি প্রবেশ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ ফেলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে ভারতের আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানিও বেড়েছে। লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি একসময় বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরে কিছুটা কমে যায়। তবে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় তিস্তা তীরবর্তী কয়েকটি এলাকা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি উপজেলার জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে এবং টানা তিন থেকে চার দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




Comments