ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সিলেটের জনজীবন। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে দিন-রাতের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে।
শহরের তুলনায় সিলেটের গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমনা আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই, ফ্যান নেই। এই গরমে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর।’
একজন অভিভাবক আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিদ্যুতের এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে। আপাতত শুধু চাই, এইচএসসি পরীক্ষাটা যেন ঠিকভাবে শেষ হয়।’
নগরের দরগামহল্লার বাসিন্দা মুফতি কামরুজ্জামান কামু অভিযোগ করে বলেন, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যার পর বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এমনকি গভীর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে সময় কাটাতে হচ্ছে।
নগরের মধুশহীদ এলাকার বাসিন্দা ও সফটওয়্যার ডেভেলপার আনজুম লুবাবা জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রিমোট ভিত্তিক পেশাগত কাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, সিলেটে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ২৩০ থেকে ২৪০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পেলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।




Comments