বিকেলের আড্ডায় এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের সঙ্গে কামড় বসালেন এক টুকরো ডার্ক চকোলেটে; স্বাদের এই যুগলবন্দী অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু জানেন কি, এই সুস্বাদু অভ্যাসটি আপনার শরীরের জন্য, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী হতে পারে? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, চা এবং চকলেটের এই সংমিশ্রণ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা পালন করে।
মূল রহস্য যেখানে
ফ্ল্যাভান-৩-ওলস চা এবং চকলেটের এই জাদুর নেপথ্যে রয়েছে ‘ফ্ল্যাভান-৩-ওলস’ নামক একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি মূলত এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা রক্তনালীর কার্যকারিতা বাড়াতে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। চা এবং চকলেট ছাড়াও এই উপাদানটি আপেল, আঙুর এবং বেরিজাতীয় ফলেও পাওয়া যায়।
গবেষণায় যা দেখা গেছে
‘ইউরোপীয় জার্নাল অফ প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি’-তে প্রকাশিত একটি বড় ধরনের মেটা-অ্যানালাইসিসে প্রায় ৫,২০৫ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো ১৪৫টি ট্রায়াল পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষক ক্রিশ্চিয়ান হেইসের মতে, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফ্ল্যাভান-৩-ওলস গ্রহণ করলে রক্তচাপ এতটাই কমে যা ওষুধের কার্যকারিতার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তবে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক বা নিম্ন, তাদের ক্ষেত্রে এটি তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
কতটুকু এবং কীভাবে খাবেন?
রক্তচাপের এই সুফল পেতে হলে আপনাকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম ফ্ল্যাভান-৩-ওলস গ্রহণ করতে হবে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিচের সমন্বয়গুলো রাখতে পারেন:
২ থেকে ৩ কাপ চা।
১ থেকে ২ সার্ভিং ডার্ক চকলেট।
অথবা ২ থেকে ৩টি আপেল।
আপনি চাইলে এই খাবারগুলোর একটি মিশ্রণও তৈরি করে নিতে পারেন। যেমন চায়ের সাথে সামান্য ডার্ক চকলেট এবং কিছু ফল।
ধৈর্য ধরতে হবে
৪ থেকে ৮ সপ্তাহ এক বা দুই দিন চা-চকলেট খেলে কিন্তু জাদুকরী কোনো পরিবর্তন আশা করা যাবে না। পুষ্টিবিদ কেভিন পার্কের মতে, রক্তচাপে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে হলে অন্তত চার থেকে আট সপ্তাহ নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।
সতর্কতা
মনে রাখবেন, চা এবং চকলেট উচ্চ রক্তচাপের একমাত্র সমাধান নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে মাত্র। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এছাড়া আপনার যদি অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকে, তবে ডায়েটে নিয়মিত চা বা চকলেট যোগ করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments