Image description

সরকারের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর গ্রিন সিটি, পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উন্নয়ন ও মেরিন একাডেমি জোড়দার করণ প্রকল্পগুলোতে কোটি কোটি টাকার টেন্ডারকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা, স্থানীয় ঠিকাদার এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ অনুমোদন করানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অতিমূল্যায়ন, কার্যাদেশ বিলম্বিত করা, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই-১) মিজানুর রহমান, এসডিই ই/এম ফারুক হোসেনহর অধীনস্থ কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কাজ অসম্পূর্ণ, তবু শুরু ‘মেরামতের’ উত্সব: রূপপুর গ্রিন সিটি প্রকল্পের সব অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি হস্তান্তর বা ব্যবহার উপযোগী হয়নি। অথচ এরই মধ্যে লিফট, বৈদ্যুতিক ফিটিংস, এয়ার কুলার, ভবনের অভ্যন্তর ও বহিরাংশের রং, স্যানিটারি ও সিভিল মেরামতের নামে একের পর এক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে যেসব স্থাপনা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহারে আসেনি, সেগুলোকেও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ বা ‘ব্যবহার অনুপযোগী’ হিসেবে দেখিয়ে নতুন বরাদ্দ নেয়া হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থের যৌক্তিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, একাধিক টেন্ডারে প্রকৃত বাজারদরের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি ব্যয়ে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত এই ব্যয়ের সুযোগেই সরকারি অর্থ অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, কিছু কাজের প্রকৃত ব্যয় এবং অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

লিফট, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, রংকরণ— সবখানেই প্রশ্ন: রূপপুর গ্রিন সিটি প্রকল্পে লিফটের যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, বৈদ্যুতিক ফিটিংস পরিবর্তন, এয়ার কুলার সার্ভিসিং, ভবনের রংকরণ এবং সিভিল-স্যানিটারি মেরামতের নামে কয়েক কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি টেন্ডারে প্রতিযোগিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়া কিছু কাজের মান নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন। পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উন্নয়ন প্রকল্পেও মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, মেডিকেল গ্যাস লাইন, এসটিপি, ওভারহেড রিজার্ভার, ভিনাইল ফ্লোরিং, আরসিসি নির্মাণসহ একাধিক বড় টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি টেন্ডারের কার্যাদেশ দীর্ঘদিন আটকে রেখে পরে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান নির্মাণকাজের মান নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

যত অভিযোগ: জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রূপপুর গ্রিন সিটির ২১ নং হাইরাইজড ভবনে প্যাসেঞ্জার লিফটের ক্ষতিগ্রস্থ ও ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও প্রতিস্থাপন কাজের ১১৪৮৭৩৪ নং টেন্ডার আইডিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাজটি পাইয়ে দেয়া হয় সনেক্স ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। ১ কোটি ১ লাখ ১১ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৪০০ টাকা চুক্তিমূল্যের এই কাজটি আগেই বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীর। রূপপুর গ্রিন সিটি ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা মেডিকেল হাসপাতাল প্রকল্পের অনেকগুলো কাজও এমন বিতর্কিত বাস্তবায়ন দেখিয়েছেন তিনি। 

একইভাবে ১২৩৫২৩০ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২ কোটি টাকা বরাদ্দে রূপপুর গ্রিন সিটি প্রকল্পের ৬.১, ৬.২, ৬.৩, ৫.৫, ৫.৭, ৫.৬, ৫.৮, ৫এ৬, ৫এ৭, ৫এ৮ নং ভবনসহ মোট ১১টি ভবনের ব্যবহার অযোগ্য ক্ষতিগ্রস্থ বৈদ্যুতিক ফিটিংস্ ফিক্সার ও বাসায় ব্যবহারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরিবর্তন কাজ; ১২৩৫২৩১ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে গ্রিন সিটির প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দে  ৫.১, ৫.২, ৫.৩, ৫এ১, ৫এ২, ৫এ৩, ৫এ৪, ৪.১, ৪.২ নং ভবন ও প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর কাম ডরমেটরিসহ মোট ১০টি ভবনের ব্যবহার অযোগ্য ক্ষতিগ্রস্থ বৈদ্যুতিক ফিটিংস্ ফিক্সার ও বাসায় ব্যবহারের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরিবর্তন কাজ; কোটি টাকা বরাদ্দে ১২৩৪২২৭ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে গ্রিন সিটির ভবনসমুহের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবহার অযোগ্য এয়ারকুলার মেশিনের স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ স্থাপনসহ সার্ভিসিং কাজ; ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে ১১৪৮৭৩৮ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২১ নং হাইরাইজড ভবনের ক্ষতিগ্রস্থ ও ত্রুটিপূর্ণ প্যাসেঞ্জার লিফটের খুচরা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও স্থাপন কাজ; ২ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৩ টাকা বরাদ্দে ১২৫৪৯৪২ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে রূপপুর গ্রিন সিটির ৭, ১০, ১৩ ও ১৭ নং ২০ তলা ভবনের বাইরের রংকরণ কাজ; ২ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২০২৮৪৯ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই প্রকল্পের ৪ নং ২০ তলা ভবনের বাইরের রংকরণসহ কোয়ারেন্টিন ভবন ও আনসারদের অস্থায়ী আবাসিক ভবনের নবায়ন কাজগুলোতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ রয়েছে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

বেশ কয়েকজন ঠিকাদার জানিয়েছেন, এসব কাজের বাইরে ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ২১১ টাকা বরাদ্দে গ্রিন সিটি প্রকল্পের ভবন নং ৩(৫এ৯), ১৩(৫এ৬) এর সিভিল স্যানিটারি রিপেয়ার ওয়ার্ক; ৭৪ লাখ ১ হাজার ৪৯৮ টাকা বরাদ্দে একই প্রকল্পের ৫(৫.৫), ১৭(৫.৬) নং ভবনের রংকরণ কাজসহ সিভিল স্যানিটারি মেরামত কাজ; প্রায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে গ্রিন সিটি প্রকল্পের ভবন নং ১৫, ১৬, ১৮, ২০ ও ২১ নং ভবনের ভিতরের রংকরণসহ জরুরি সিভিল স্যানিটারি মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ: প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দে একই প্রকল্পের ভবন নং ৮(৫.২), ৯ (৫.১), ১১(৫.৩), ১৪(৫.৪) নং ভবনের রংকরণসহ পূর্ত মেরামত কাজগুলোতে হরিলুট চালানো হয়েছে। এসব কাজে ৩/৪গুণ বেশি ওভার ইস্টিমেট করে ঊর্দ্ধতনদের যোগসাজশে প্রায় কোটি টাকা লুটপাট ভাগ-বাটোয়ারার করে নেয়া হয়েছে। 

হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ নিয়েও ঘাপলা: একইভাবে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৪০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে হাসপাতালে মেডিকেল ওয়েষ্ট ম্যনেজমেন্ট সিষ্টেম সরবরাহ স্থাপণ কাজের ১১২৬০২৪ নং টেন্ডার আইডিতে ৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনে ৬টি অংশগ্রহণ করলেও ট্রেডভিশন লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের পার্সেন্টেজের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দে ১১৩২৭২৯ টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালে মেডিকেল গ্যাস সিষ্টেম ইনষ্টলেশন ও ডিষ্ট্রিবিউশন লাইন নির্মাণ কাজ; ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬৫০নং আইডি’র মাধ্যমে সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১০ তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজে এ ব্লকের উন্মুক্ত জায়গায় গ্লাস ওয়ার্ক, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬২৬ নং আইডি’র মাধ্যমে একই প্রকল্পে সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজের আওতায় ওভারহেড রিজার্ভার নির্মাণ কাজ; ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬২০ নং আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালের একই ভবনে  ১৫ ও ১২ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি কাজ; আরো ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬১৬ নং আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালে একই ভবনের ওটি ল্যাবরেটরি আইসিইউ রুমে ভিনাইল ফ্লোরিং সরবরাহ ও স্থাপন কাজ; ৫ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৬১২ নং আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালের একই ভবনে ফাউন্ডেশন ব্রিকওয়াল নির্মাণসহ আরসিসি ওয়ার্ক; ৩ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২১৭৫৯৬ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালে ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজের আওতায় মসজিদ, মর্গ, মরচুয়ারি ভবন, নিরাপত্তা কক্ষ, বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন, পাম্প হাউজ ও পাবলিক টয়লেট, ভবনে মার্বেল স্টোন ফ্লোরিংসহ সংশ্লিস্ট এলাকায় আরসিসি স্লাব তৈরির কাজ; ৬ কোটি টাকা বরাদ্দে ১২৩১৭৯০ নং আইডি’র মাধ্যমে একই হাসপাতালের একই ভবনে এসটিপি সরবরাহ ও স্থাপন কাজগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পন্ন হলেও ওয়ার্ক অর্ডার না দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশে। চলমান উল্লেখিত কাজগুলোর মান নিয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ উদ্বেগ উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর  সিডিউল বহির্ভূত নিম্নমাণের কাজের বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে সহযোগিতা করছেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই-১) মিজানুর রহমান, এসডিই ই/এম ফারুক হোসেন। এ দুই মাঠ কর্মকর্তাও কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

যা বলছেন দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা: বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি প্রমাণাদিসহ তার বক্তব্য দেয়ার কথা বলে দুই সপ্তাহ সময় অতিবাহিত করেও বক্তব্য দেননি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেওয়ান মাউদুদুর রহমানের সঙ্গে। মানবকণ্ঠকে তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীই ভালো বলতে পারবেন। আমি উনাকে বলে দিচ্ছি, নিউজের জন্য যেসব তথ্য এবং বক্তব্য প্রয়োজন যাতে সরবরাহ করেন। পরবর্তীতে আবারও যোগাযোগ করা হয় নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের সঙ্গে। তিনি কাজের অজুহাত দেখিয়ে বলেন, প্রকল্পগুলো নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকায় অভিযোগগুলো খন্ডানোর জন্য যেসব কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে সেগুলো পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই দাবি করে তিনি আরও দুইদিন সময় চান উনার স্বপক্ষে প্রমাণাদি দেয়ার জন্য। কিন্তু গতকাল বিকালে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো কাগজপত্র সরবরাহ কিংবা বক্তব্য দেননি।