চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম। ব্যবসায়ীদের ফোনে চাঁদা দাবি, টাকা না পেলে হামলা-ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত এক মাসে অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে ডেভিড ইমনের নেতৃত্বাধীন চক্র। সর্বশেষ চাঁদার টাকা না পাওয়ায় সোমবার চট্টগ্রামের চন্দনপুরায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জানা গেছে, চাঁদা হিসেবে দুই কোটি টাকা দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে দুই দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় প্রায় ৩০ জন হামলাকারী প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। একই ঘটনায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও ওঠে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডেভিড ইমন কথিত বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে অপরাধজগতে পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি ওই গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডেও ডেভিড ইমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া গত দুই বছরে চাঁদা না দেওয়ায় তার নির্দেশে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সর্বশেষ হামলার পর একই দিন সন্ধ্যায় নগরীর জিইসি মোড় এলাকার আরেকটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিককে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার নেওয়াজ মোরশেদ জানান, ডিডিএনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তাকে টাকা না দিলে একই পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ডেভিড ইমনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হামলাকারীদের অনেকেই মুখোশ পরিহিত থাকায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগছে।




Comments