Image description

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের নতুন বিশেষ প্রতিনিধি এবং দেশটিতে জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) প্রধান হিসেবে বাংলাদেশি জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে নিয়োগ দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। মহাসচিব ওতুনবায়েভার নিবেদিত সেবার জন্য তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত কানাডার জর্জিয়েট গ্যাগননকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রাবাব ফাতিমা বর্তমানে জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC), ভূ-বেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রসমূহের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতি প্রণয়ন এবং কৌশলগত প্রকল্প বাস্তবায়নে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ২০২০ সালে ইউনিসেফ এবং ২০২২ সালে ইউএন-ওমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালে তিনি ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের নির্বাহী বোর্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। ২০২২ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে জাতিসংঘ পিসবিল্ডিং কমিশনের (শান্তি বিনির্মাণ কমিশন) চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।

পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে রাবাব ফাতিমা ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থায় (আইওএম) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক উপদেষ্টা এবং লন্ডনের কমনওয়েলথ সচিবালয়ে মানবাধিকার বিভাগের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন।

শিক্ষাজীবনে রাবাব ফাতিমা যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দি ও উর্দু ভাষায় দক্ষ।

আফগানিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর