সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় বন্যার কারণে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। পৃথক দুই ঘটনায় বিষধর সাপের কামড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন–নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের হযরত আলী (৪৫) এবং খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের মমতা বেওয়া। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে পানাগাড়ি এলাকায় বন্যার পানিতে বসানো দুয়ারি জালের মাছ ছাড়াতে গিয়ে হযরত আলী সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। একই দিন সন্ধ্যায় গোয়ালঘরে বিদ্যুতের সুইচ দিতে গেলে সাপের কামড়ের শিকার হন মমতা বেওয়া।
স্বজনরা জানান, সাপে কাটার পর দুজনকেই দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় ওঝা ও কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়। এতে সময় নষ্ট হয়। পরে হযরত আলীকে সন্ধ্যায় এবং মমতা বেওয়াকে রাত ১১টার দিকে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথে মমতা বেওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হযরত আলীর মৃত্যু হয়।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল বলেন, রোগীদের অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ততক্ষণে সাপের বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, সাপে কাটার পর ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে এলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন নুরুল আমিন বলেন, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তিনি সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানান।




Comments