ভারতে প্রশ্নফাঁস নিয়ে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তার পর অনশন ভেঙেছেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৬ দিন অনশন করার পর ২৭ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে তিনি গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা দেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি শুক্রবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাস দেন। মোদির এই আশ্বাসের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙেন। এ সময় হাসপাতালে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এই বিষয়ে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিল পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।’
সোনম অনশন ভাঙার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরেকটি পোস্টে তার দ্রুত সুস্থতা ও ওজন ফিরে পাওয়ার কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে সরকার।
উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ একাধিক ইস্যুতে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেন সোনম ওয়াংচুক। তার এই অনশন ছাত্র আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments