বাংলাদেশে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো দেশের আধিপত্যই মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল সীমান্ত সুরক্ষা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। তিনি বলেন, “আমরা কারও আধিপত্য মেনে নেব না—ভারতেরও না, আমেরিকারও না।”
জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। জুলাই আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিলের জন্য অপেক্ষা করতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রয়েছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের বিষয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদ এবং আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী প্রত্যেককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও রাষ্ট্র গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও বড় অবদান রেখেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তার প্রাপ্য মূল্যায়ন পায়নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, রাজধানীতে অবস্থিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও উন্নত করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন, জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক, প্রক্টর ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা, গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




Comments