বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা রুমা ও আলীকদমে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরে দুই উপজেলায় হামের উপসর্গে অন্তত ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে রুমা উপজেলার দুর্গম লেতং খুমী পাড়ায় হামের উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা এলাকায় একই ধরনের উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বর্তমানে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবার অভাব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সময়মতো রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রুমা উপজেলার বাসিন্দা অং সাই খুমী জানান, লেতং খুমী পাড়ায় পৌঁছাতে মোটরসাইকেলে একটি নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত যাওয়ার পর আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা পাহাড়ি পথ হেঁটে যেতে হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
ইউনিসেফের টিকাদান কর্মী উ থোয়াই সিং মারমা জানান, এলাকায় গিয়ে প্রায় প্রতিটি ঘরেই শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসার পরিবর্তে ভেষজ ও গাছ-গাছড়ার চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছে। তিনি জানান, এক থেকে ছয় বছর বয়সী ৩০-৩৫ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং সংকটাপন্ন কয়েকজন শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল হাসান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি অধিকাংশ শিশুর বয়স ৫ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্গম এলাকার কিছু পরিবার টিকাদানে অনীহা দেখিয়েছে। পাশাপাশি অতীতে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো অবহেলা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী জানান, দুর্গম এলাকায় শিশুদের টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বান্দরবান সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৩৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যাই বেশি। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই দুর্গম এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি (মপ-আপ ক্যাম্পেইন) শুরু করা হবে। তবে জেলায় প্রায় ২০০টি স্বাস্থ্যকর্মীর পদ শূন্য থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




Comments