Image description

ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। মুক্তির মাত্র ১০ দিনেই ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (৬৫২ মিলিয়ন ডলার), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।

প্রথম সপ্তাহান্তেই উত্তর আমেরিকায় ছবিটি আয় করে ১২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী আয় হয় ২৬ কোটি ৪১ লাখ ডলার। প্রায় তিন হাজার বছর পুরোনো গ্রিক মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত একটি সিনেমার জন্য এমন সাফল্যকে নজিরবিহীন বলছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘দ্য ওডিসি’র এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, ক্রিস্টোফার নোলানের জনপ্রিয়তা। ‘ওপেনহাইমার’, ‘ইনসেপশন’, ‘ইন্টারস্টেলার’ ও ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজির মতো চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে নোলান নিজেই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন। তার নামই দর্শকদের হলে টানার অন্যতম বড় কারণ।

দ্বিতীয়ত, আইম্যাক্সে নতুন অভিজ্ঞতা। ‘দ্য ওডিসি’ বিশ্বের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা পুরোপুরি আইম্যাক্স ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। বিশাল পর্দায় এই অভিজ্ঞতা নিতে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। উদ্বোধনী সপ্তাহান্তেই শুধু আইম্যাক্স সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার।

তৃতীয়ত, তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী। ছবিতে ওডিসিউস চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। এছাড়া রয়েছেন টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, জেন্ডায়া, লুপিতা নিয়ঙ্গ’ও, রবার্ট প্যাটিনসন, শার্লিজ থেরন, জন লেগুইজামো ও জন বার্নথালের মতো জনপ্রিয় তারকারা।

চতুর্থত, সব বয়সী দর্শকের আগ্রহ। ধারণা করা হয়েছিল, গ্রিক মহাকাব্যভিত্তিক হওয়ায় ছবিটি মূলত বয়স্ক দর্শকদের আকর্ষণ করবে। কিন্তু মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে দর্শকদের প্রায় অর্ধেকই ছিলেন ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী, যা তরুণদের মধ্যেও ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

সবশেষে, ইতিবাচক রিভিউ ও মুখে মুখে প্রচার। মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শক—উভয়ের কাছ থেকেই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে ‘দ্য ওডিসি’। ইতিবাচক পর্যালোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসা ছবিটির টিকিট বিক্রি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী সূচনার পর ‘দ্য ওডিসি’ দীর্ঘ সময় বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে দাপট বজায় রাখবে। প্রায় ২৫ কোটি ডলার বাজেটের এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।