যুদ্ধের আতঙ্ক ছাপিয়ে পেটের দায়ে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ বাঁচাতে দেশে ফিরে এলেও, জীবন-জীবিকার কঠোর বাস্তবতায় আবারও তারা কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। পরিবার-পরিজনকে ফেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বুক ফেটে কান্না আসলেও, কেবল ‘পেটের দায়ে’ তারা ঝুঁকির মুখে বিমানে উঠছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গেছে বিদায়ের করুণ দৃশ্য। প্রবাসী কর্মীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে অশ্রুসজল চোখে বিদায় নিচ্ছেন।
২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাকিব, যিনি চার বছর ধরে সৌদি আরবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন, তিনি বলেন, "ফিরে যেতে ভয় হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিয়ের জন্য ছুটিতে দেশে এসেছিলাম, এখন নতুন স্ত্রী আর পরিবারকে রেখে যেতে হচ্ছে। কে জানে সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে!" সাকিবের ছোট ভাই মনিরুল ইসলাম তাকে জড়িয়ে ধরে শেষ বিদায় জানানোর সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত রয়েছেন, যার একটি বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যে। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরবেই বাস করেন মোট প্রবাসীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। যুদ্ধের ছায়া তাদের নিত্যদিনের কাজ ও মনে বড় ধরনের প্রভাব ফেললেও জীবিকার প্রয়োজনে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাভেল এজেন্সি ‘রহমান টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আরিফুল ইসলাম জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। প্রতিটি ফ্লাইটে অন্তত ৩০০ বা তার বেশি যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল। এখন কিছু বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সীমিত আকারে শুরু হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী আবারও ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। যারা টিকিট পাচ্ছেন, তারা ইতোমধ্যে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।
প্রবাসী শ্রমিকদের ভাষ্য, যুদ্ধ ভয়ংকর হলেও বেকারত্বের অভিশাপ ও পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট তাদের কাছে আরও বেশি উদ্বেগের। তাই জীবনের ঝুঁকি থাকলেও তারা প্রিয়জনদের ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে পাড়ি দিচ্ছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments