হালুয়াঘাটে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুস উদযাপিত
পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জশনে জুলুস, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত সূফী সংগঠনের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস বের করা হয়। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিভিন্ন রঙের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। জুলুসটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে এসে শেষ হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
পরে অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জন্ম, মহান জীবনাদর্শ, সুন্নাহ এবং মানবতার কল্যাণে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাঁর জীবন ও শিক্ষা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
আলোচনা শেষে দরুদ ও সালাম পেশ করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বমানবতার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দ) মক্কা নগরীতে। তাঁর জন্মতারিখ হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল মুসলিম বিশ্বের একটি বহুল প্রচলিত মত। একই তারিখে তাঁর ওফাত হয়েছে—এমন মতও প্রচলিত রয়েছে; তবে জন্ম ও ওফাতের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবীর আনুষ্ঠানিক আয়োজনের ইতিহাস মধ্যযুগে ইরাকের ইরবিল নগরী থেকে শুরু হয়েছে বলে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের প্রচলন ঘটে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে এ উপলক্ষে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ মাহফিল, দরুদ পাঠ, আলোচনা সভা, দোয়া ও দান-খয়রাতের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, আশেকান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
এসএ




Comments