Image description

দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের দায়ে ফিফা থেকে সম্প্রতি দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আবু নাইম সোহাগ। বিষয়টি দেশের ফুটবলে কালিমা লেপন করেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকে আবার স্বস্তির নিশ্বাসও ফেলেছেন। কেননা, এক সোহাগের ওপর দিয়েই পার পেয়ে গেছে বাফুফে। 

অনেকেই বলছেন, দায়টা কেবল সোহাগের নয় সভাপতি থেকে শুরু করে বাফুফের অন্য কর্তাদেরও। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এখনও চলমান। রোববার যেমন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের নির্বাহী সভায়ও প্রসঙ্গটা এসেছে। 

জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের সভাপতি আ জ ম নাসির জানিয়েছেন, ফুটবলের সাম্প্রতিক বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শিগগিরই সাংবাদিক সম্মেলন করবেন তারা। পাশাপাশি বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে থাকা জেলা ও বিভাগের কর্মকর্তাদের পদত্যাগের আহ্বানও জানানো হবে। 

বাফুফেতে জেলার কর্মকর্তা রয়েছেন তিনজন- নোয়াখালীর ওয়াদুদ পিন্টু, সিলেটের মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম এবং খুলনার অ্যাডভোকেট সাইফুল। সিলেটের মহিউদ্দিন সেলিম খানিকটা সক্রিয় থাকলেও বাকি দুইজন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একেবারে নিষ্ক্রিয়। নির্বাহী কমিটির একাধিক সভাতেও তারা অনুস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় অনুষ্ঠিত জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বাফুফে থেকে পদত্যাগ করা নির্বাহী সদস্য আরিফ হোসেন মুন। সভায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। সবকিছু শুনে তার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন পরিষদের হর্তাকর্তারা। এখন তারা অন্যদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন। 

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের মধ্য থেকে বাফুফেতে নির্বাচিত হয়েছে তাদের পদত্যাগ করতে বলা হবে।’

সিরাজউদ্দিন আরও বলেছেন, ‘তারা আমাদের এই আহ্বানে সাড়া না দিলে ব্যক্তিগতভাবে সামনে তারা আর কোনো ফেডারেশনের নির্বাচনে আমাদের সমর্থন পাবেন না এবং সংশ্লিষ্ট জেলা-বিভাগও আমাদের সঙ্গে থাকতে পারবে না।’ 

এভাবে চাপ প্রয়োগ করার নেপথ্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘তারা আমাদের সমর্থনে নির্বাচিত হয়েছে জেলা ফুটবলে কাজের জন্য। আজ জেলা ফুটবল স্থবির। তাদের কথা বলার সুযোগ নেই। আবার কাজও করতে পারছে না। ফলে সেখানে (বাফুফের কমিটিতে) থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ 

বাফুফে ছাড়াও এ দিনের সভায় কয়েকটি ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ব্যাডমিন্টন, দাবা ও হকির নির্বাচনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ মোল্লাকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল ফোরাম। এ দিনের সভায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়টি ফোরামের সভাপতি আ জ ম নাসিরের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।