সহজ লক্ষ্য তাড়ায় উড়ন্ত সূচনা করেও মাঝে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল পাকিস্তান। এক পর্যায়ে হারের শঙ্কা জাগলেও ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ক্যামিওতে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় পেয়েছে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নরা। নেদারল্যান্ডসের দেওয়া ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৩ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
১৪৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল পাকিস্তান। সাইম আইয়ুবের ১৩ বলে ২৪ রানের ঝড়ে ৩ ওভারেই আসে ২৭ রান। সাইম দ্রুত ফিরলেও হাল ধরেন সাহিবজাদা ফারহান। ৩১ বলে ৪৭ রানের এক ঝকঝকে ইনিংসে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের স্কোরবোর্ড এক সময় ১০ ওভারে ৯০ রানে পৌঁছালে মনে হচ্ছিল জয় কেবল সময়ের ব্যাপার।
তবে ফারহান দলীয় ৯৮ রানে আউট হতেই চিত্রপট বদলে যায়। মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে পাকিস্তান হারায় উসমান খান, বাবর আজম, শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজকে। ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তখন খাদের কিনারায়।
বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে আসেন ফাহিম আশরাফ। ১৯তম ওভারে ম্যাক্স ও'ডাউড ক্যাচ মিস করলে জীবন পান ফাহিম। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই ওভারেই তিন ছক্কা ও এক চারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন তিনি। ১১ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই অলরাউন্ডার।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা নেদারল্যান্ডস শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক করেছিল। মাইকেল লেভিট ১৫ বলে ২৪ রান করে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই বাবর আজমের এক দর্শনীয় ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন। মিডল অর্ডারে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস সর্বোচ্চ ৩৭ ও বাস ডি লিডে ৩০ রান করলে এক সময় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল ডাচরা। ১০ ওভারে ৭৯ রান তুলে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সেরা শুরুর রেকর্ডও গড়ে তারা।
কিন্তু ১৭তম ওভারে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন আবরার আহমেদ ও পার্ট-টাইম বোলার সাইম আইয়ুব। আবরারের শিকার হন এডওয়ার্ডস। এরপর সাইম আইয়ুব এক ওভারেই তুলে নেন ৩ উইকেট। ফলে ১৪৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।
ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তান না যাওয়ার ইস্যুতে টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচই এখন পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নেট রান রেটের সমীকরণে জয়টা জরুরি ছিল বাবর আজমদের জন্য। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সেই লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হলো পাকিস্তান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments