প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ জয়ের পর সিরিজ নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে দিল পাকিস্তান। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারীরা।
মিরপুরে আগে ব্যাট করে সব কটি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলার পর বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে খেলা প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এরপর বৃষ্টি আইনে (ডিএলএস মেথড) বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। কিন্তু পাহাড়সম এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১১৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।
বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুটা ছিল চরম হতাশাজনক। শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের বোলিং তোপে মাত্র ১৫ রানেই সাজঘরে ফেরেন প্রথম সারির তিন ব্যাটার। তানজিদ হাসান তামিম ১, সাইফ হাসান ১২ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কোনো রান না করেই আউট হন।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। এই দুজনের প্রতিরোধ গড়া জুটিতে আসে ৫৮ রান। তবে ৩৩ বলে ৪১ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলা লিটন স্পিনার মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।
লিটনের বিদায়ের পর আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাওয়া আফিফ হোসেন (১৪), মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনরা কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। মাজ সাদাকাতের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে একে একে উইকেট বিলিয়ে দেন তারা। একপ্রান্ত আগলে রাখা তাওহীদ হৃদয়ও শেষ পর্যন্ত হার মানলে ১১৪ রানেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
এর আগে, পাকিস্তানের ইনিংসে চতুর্থ উইকেটে সালমান আলী আঘা (৬৪) ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১০৯ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছিল সফরকারীরা। শেষদিকে মাত্র ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারালেও ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয় পাকিস্তান, যা শেষ পর্যন্ত তাদের সিরিজে দাপুটে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments