Image description

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর সীমান্ত সংঘাতের আঁচ লেগেছে ফুটবল বিশ্বেও। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে এবার সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

সম্প্রতি ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের একটি প্রতিনিধিদল কানাডায় গেলেও তাদের বিমানবন্দরেই আটকে দেয় দেশটির প্রশাসন। ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। স্বাগতিক তিন দেশের অন্যতম কানাডার এমন মারমুখী অবস্থানে প্রশ্ন ওঠে—যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ইরান কি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারবে?

এমন পরিস্থিতিতে বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ফিফা। ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ত্রোম ইরানের কর্মকর্তাদের জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী ২০ মে’র মধ্যে এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ কানাডা থেকে ফিরে এই আলোচনার গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, আমরা দ্রুতই ফিফার সঙ্গে বৈঠকে বসছি।”

ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগে থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবারের ফিফা কংগ্রেসে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে।

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ খবরটি এসেছে হোয়াইট হাউস থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “জিয়ান্নি (ইনফান্তিনো) যদি মনে করেন ইরান খেলবে, তবে আমার পক্ষ থেকেও কোনো সমস্যা নেই।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা সহজ করতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে জুরিখে ফিফার সঙ্গে তেহরানের আসন্ন বৈঠকটিই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপে পারস্যের দেশটিকে দেখা যাবে কি না।

___
এআর/এমকে