সিলেটে ইতিহাসের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে আসার পর এবার ঘরের মাঠেও ‘ধবলধোলাই’ বা হোয়াইটওয়াশ করার হাতছানি নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে। ৪৩০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ৩১৬ রান তুলেছে। জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর মাত্র ৩ উইকেট।
চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে স্বাগতিকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ১৩৪ রানের বিশাল জুটি। এই জুটি ভেঙে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করার পর নিজের পরের ওভারেই হাসান আলীকেও সাজঘরে ফেরান তাইজুল। ৮ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে দিন শেষে চালকের আসনে টাইগাররা।
রোববার সকালে কোনো উইকেট না হারিয়ে দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে ১১তম ওভারেই প্রথম আঘাত হানেন স্পিডস্টার নাহিদ রানা। তার গতির কাছে পরাস্ত হয়ে ৬ রানে ফেরেন ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। দলীয় ৪১ রানে অন্য ওপেনার আজান আওয়াইসকে (২১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
তৃতীয় উইকেটে বাবর আজম ও শান মাসুদ ৬৭ রানের জুটি গড়লেও তাইজুলের ঘূর্ণিতে সেই প্রতিরোধ ভেঙে যায়। বাবর ৪৭ ও অধিনায়ক শান মাসুদ ৭১ রান করে বিদায় নেন। মিডল অর্ডারে সউদ শাকিলও (৬) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নাহিদ রানার বোলিং তোপে। ১৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়া পাকিস্তানকে টেনে নিয়ে যান রিজওয়ান ও সালমান। তবে দিনের শেষভাগে তাইজুলের আঘাত পাকিস্তানকে পরাজয়ের একদম কিনারে নিয়ে ঠেলে দিয়েছে।
চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তান এখনো ১২১ রানে পিছিয়ে আছে। হাতে আছে মাত্র ৩ উইকেট। উইকেটে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম ১১৩ রান দিয়ে শিকার করেছেন ৪টি উইকেট। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২টি ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি উইকেট পেয়েছেন।
পঞ্চম দিনের সকালে দ্রুত বাকি ৩ উইকেট তুলে নিতে পারলেই বিদেশের মাটির পর দেশের মাটিতেও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments