Image description

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ হলো ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তির ম্যাচ দেখতে সারাবিশ্বের ফুটবল ভক্তরা সবসময় মুখিয়ে থাকেন। আর সেই লড়াই যদি হয় বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে, তবে তো উন্মাদনার কোনো সীমাই থাকে না। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ঠিক তেমনই এক রোমাঞ্চকর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চলতি বিশ্বকাপে। নকআউট পর্বের জটিল সমীকরণ মিলে গেলে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন যুগ বা ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেখা যেতে পারে লাতিন আমেরিকার এই দুই জায়ান্টকে।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ জুন ইতালির তুরিনে। সেই হাইভোল্টেজ ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুর্দান্ত এক অ্যাসিস্ট থেকে ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার করা একমাত্র গোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এটিই ছিল দুই দলের শেষ লড়াই। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৬টি বছর, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের আর দেখা মেলেনি। তবে চলমান বিশ্বকাপের লাইন-আপ ভক্তদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর পথ তৈরি করছে।

চলতি টুর্নামেন্টের সমীকরণ অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন অবস্থান ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তারা এবং সবকিছু ঠিক থাকলে সেখানেও জয় তুলে নিয়ে নকআউটের প্রথম ধাপে তারা মুখোমুখি হতে পারে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স আপ উরুগুয়ের। অন্যদিকে বিশ্বকাপের শুরুটা আশানুরূপ না হলেও হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে হার এড়াতে পারলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে জাপানের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।

যদি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন বাধাগুলো সফলভাবে পেরোতে পারে, তবেই সেমিফাইনালে দেখা হয়ে যাবে এই দুই চিরশত্রুর। যেখানে একদিকে থাকবে আর্জেন্টিনার ঝুলিতে চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা তোলার জন্য লিওনেল মেসির দলের মহালড়াই, আর অন্যদিকে থাকবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার জন্য ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের মহাপ্রস্তুতি। এখন মাঠের লড়াইয়ে এই জাদুকরী সমীকরণ মিলে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী।

মানবকণ্ঠ/আরআই