রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে দেশের খুচরা ও সেবা খাতের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্টুরেন্টসহ ১৬ ধরনের ব্যবসা খাতকে ভ্যাট নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মহিলা আসন-৩৫-এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা জানতে চান, গত অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় কত ছিল এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন করে বেশ কয়েকটি ব্যবসা ও সেবা খাতকে সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সম্ভাব্য নতুন ভ্যাটভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড় বিক্রয়কেন্দ্র, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিক গৃহস্থালি পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ডেকোরেটরস এবং মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের শোরুম।
এ ছাড়া এসি, ফ্রিজ, ওভেনসহ গৃহস্থালি ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড-সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভান্ডার, রেস্টুরেন্ট এবং বিউটি পার্লারকেও ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) খাত থেকেই সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। রাজস্ব সংগ্রহের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এবং কর ব্যবস্থাকে অধিকতর কার্যকর করতে নতুন খাতগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।




Comments