Image description

মাঠের লড়াইয়ে জাপানকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনহার একটি বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি এবং জাপানি ফুটবলারের করা মন্তব্যের পাল্টা জবাব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুনহার এই আচরণ নিয়ে বইছে বিতর্কের ঝড়।

রাউন্ড অব থার্টি-টু-এর এই নাটকীয় ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। জয় উদযাপনের সময় টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে, মাথেউস কুনহা নিজের জার্সিতে ব্রাজিলের লোগো বা ক্রেস্টের দিকে আঙুল তুলছেন এবং হাত উঁচিয়ে একটি বিশেষ ইশারা করছেন। অনেকেই দাবি করছেন, কুনহা পাঁচটি আঙুল তুলে ব্রাজিলের পাঁচবার বিশ্বকাপ জয়ের আভিজাত্যই মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে এই উদযাপনকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অনেক ফুটবল ভক্ত।

মূলত এই বিতর্কের বীজ বপন করা হয়েছিল ম্যাচের আগেই। জাপানি ফুটবলার কেন্তো শিওগাই এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ব্রাজিল এখন আর ফুটবলের পরাশক্তি নয়।’ মাঠের লড়াইয়ে জেতার পর সেই মন্তব্যের জবাব দিতেই কুনহা এমন ভঙ্গি করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা। তিনি বলেন, “সব রকম সম্মান রেখেই বলছি, ব্রাজিলের মতো একটি সফল ও বিজয়ী দল সম্পর্কে যখন একজন জাপানি ফুটবলার এমন কথা বলেন, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন। আমাদের দেশের কেউ সমালোচনা করলে সেটি আলাদা বিষয়, কিন্তু বাইরের কেউ আমাদের ফুটবল ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে আমরা একজোট হয়ে জবাব দেব। এই জার্সিটির একটি মর্যাদা আছে, যারা আগে এই জার্সি পরেছেন তাদের একটি বিশাল ইতিহাস আছে। সেই আভিজাত্যকে রক্ষা করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য।”

মাঠের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামেও সরব ছিলেন কুনহা। নিজের স্টোরিতে জাপানের বিরুদ্ধে জয়ের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এখন আমাদের সম্পর্কে একটু বেশি জানলে।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা কারও থেকে বড় নই, আবার কারও থেকে ছোটও নই।’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একটি পোস্টে তিনি ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে র‍্যাপার কেন্ড্রিক লামারের জনপ্রিয় গান ‘হাম্বল’ (Humble) ব্যবহার করেছেন, যা মূলত জাপানি ফুটবলার শিওগাইকে বিনয়ী হওয়ার খোঁচা হিসেবেই দেখছেন সমর্থকরা।

তবে উদযাপনে উদ্ধত মনে হলেও মাঠের অন্য এক দৃশ্যে কুনহার মানবিক রূপও ফুটে উঠেছে। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর যখন জাপানি মিডফিল্ডার আও তানাকা হারের বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন কুনহা নিজের জয় উদযাপন ছেড়ে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। মাঠের এই চিত্রটি অনেক ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করেছে।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের জয়ের নায়ক গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিকে নিয়েও আলোচনা কম হচ্ছে না। আর্সেনালে অফ-ফর্মে থাকা এই তারকাকে দলে নেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু নকআউট পর্বে তার করা মহামূল্যবান গোলটিই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে নিয়ে গেল।

মানবকণ্ঠ/ডিআর