উজানের পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ফুঁসছে তিস্তা নদী। গত কয়েকদিন ধরে পানি ওঠানামা করলেও মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙনে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাধিক বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
কাপাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনজু মিয়া জানান, নদীর পানি বাড়ার ফলে চরাঞ্চলের আমন বীজতলা, পাট এবং বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। তবে বন্যার চেয়েও এখন বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন। গত ৭ দিনে কাপাশিয়া, হরিপুর, শ্রীপুর ও চণ্ডিপুর ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট বা স্লুইস গেট খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিও ব্যাগ ফেলাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঈফ্ফাত জাহান তুলি জানান, "রবিবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়ায় চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর লালচামার ও ভোরের পাখি গ্রামের বেশকিছু বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments