Image description

টানা সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আরও একটি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর মাত্র দুটি জয় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দলটিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, বর্তমান আর্জেন্টিনা দল যা করছে, তা মোটেও স্বাভাবিক নয়। তাই এই সময়টাকে যতটা সম্ভব উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও সেমি-ফাইনালে উঠেছে টানা তিনটি কঠিন নকআউট ম্যাচ জিতে। দ্বিতীয় রাউন্ডে কেইপ ভার্দে, শেষ ষোলোয় মিশর এবং কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে উঠেছে তারা ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা কোনো দলের মুখোমুখি না হয়েই।

ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন,‘এটা ভালো যে আর্জেন্টিনার মানুষও আমাদের মতো এই মুহূর্তটা উপভোগ করছে। আমরাও ঠিক এভাবেই বাঁচি।’

বর্তমান দলটির মানসিকতার প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন,‘এই দলে এমন ফুটবলার আছে, যারা অস্বাভাবিক কাজ করতে অভ্যস্ত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, আমরা যা কিছু জিতেছি, তার পরও একই ক্ষুধা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া, আবারও শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া এবং আরেকটি সেমি-ফাইনাল খেলা সহজ নয়। এটা স্বাভাবিকও নয়। তাই আমাদের এই সময়টাকে যতটা সম্ভব উপভোগ করতে হবে।’

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর শিরোপার জন্য ৩৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। একইভাবে ১৯৯৩ সালের কোপা আমেরিকার পর মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পেতেও অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৮ বছর। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম সফল দল হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা।

তবে এই সাফল্যের ধারা কতদিন চলবে, তা কেউ জানে না বলেই মনে করেন মেসি।

তিনি বলেন,‘আমরা জানি না, আবার কখনও এমন সময় আসবে কি না। এলেও কবে আসবে, সেটাও জানি না। তাই এখন যা অর্জন করছি, সেগুলোর মূল্য দেওয়া এবং উপভোগ করা উচিত। আমরা বিশ্রাম নেব, শক্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করব এবং সেমি-ফাইনালে আবারও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হব।’

বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হতে যাচ্ছে মেসির।
মানবকণ্ঠ/এমআর