Image description

মাদারীপুরের শিবচরে ৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নার্সিং কলেজ প্রকল্পটি এখন অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির এক চরম দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখেই লাপাত্তা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার দুই বছর পরও কাজ শেষ না হওয়ায় অরক্ষিত ভবনটি এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (HED) সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১০ মার্চ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজধানীর মিরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই (জেভি) তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি কাজ ছেড়ে চলে গেলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে কালোতালিকাভুক্ত করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির চারপাশ ঝোপঝাড় ও লতাপাতায় ঢেকে গেছে। কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় মাদকসেবীরা সেখানে নিয়মিত আড্ডা দিচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে দরজা-জানালা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জহির হোসেন পাপ্পু বেপারী ও বাসিন্দা মো. রাকিব জানান, দ্রুত কলেজটি চালু হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হতো, কিন্তু এখন এটি চুরির আখড়া ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

কৃষিবিদ শাহীন শিকদার বলেন, "দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সরকারি সম্পদের এমন অপচয় মেনে নেওয়া যায় না।"

এ বিষয়ে মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আহসান হাবীব বলেন, "সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগের টেন্ডার বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—৮৮ শতাংশ কাজ দেখিয়ে ২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করার পরও কেন তদারকি করা হলো না? সরকারি অর্থের এমন নয়ছয় এবং চুরি হওয়া সম্পদের দায়ভার কে নেবে? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত কলেজটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর