Image description

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই মহাকাশে ঘটতে যাচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক ঘটনা। চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় চলে আসায় সৃষ্টি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর আমেরিকায় দেখা সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পর আবারও পৃথিবীর কোথাও পূর্ণগ্রাসের দেখা মিলছে। এবারের গ্রহণের পূর্ণগ্রাসের পথ পড়বে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন, রাশিয়ার কিছু অংশ এবং পর্তুগালের খুব ছোট একটি এলাকায়। ইউরোপের বেশিরভাগ অঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে অবশ্য গ্রহণটি দেখা যাবে আংশিকভাবে। বিশেষ করে স্পেন ও আইসল্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক ও আকাশ পর্যবেক্ষকরা এরই মধ্যে পূর্ণগ্রাসের পথের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্টের সেই গ্রহণের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে আর পূর্ণগ্রাস দেখা যায়নি। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে পৃথিবীর কোনো একটি অঞ্চলে গ্রহণের প্রথম পর্যায় শুরু হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই গ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। কারণ গ্রহণের দৃশ্যমান অঞ্চল মূলত উত্তর গোলার্ধের নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ।

পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড। তবে এই সময়টি পৃথিবীর নির্দিষ্ট একটি এলাকায় সর্বোচ্চ পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব; সব স্থান থেকে একই সময় ধরে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না। চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আটকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। আর চাঁদের ছায়ার সবচেয়ে ঘন অংশ, অর্থাৎ ‘আমব্রা’, যখন পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর পড়ে এবং চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢেকে ফেলে, তখনই দেখা যায় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

এ সময় দিনের আলো হঠাৎ অনেকটা কমে গিয়ে চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে এবং সূর্যের চারপাশে দেখা যায় এর বহিরাবরণ- সোলার করোনা। তবে সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতাও জরুরি। পূর্ণগ্রাসের সময় ছাড়া খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। বিশেষ সোলার ভিউয়িং গ্লাস বা অনুমোদিত সৌর ফিল্টার ব্যবহার করেই গ্রহণ দেখতে হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে বসে আজকের পূর্ণগ্রাস সরাসরি দেখা না গেলেও পৃথিবীর অন্য প্রান্তে তৈরি হতে যাওয়া এই মহাজাগতিক দৃশ্য নিঃসন্দেহে আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে এক বিরল অভিজ্ঞতা।

এম আর এ