Image description

দেশের সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন থেকে আদায়কৃত টোলের শত শত কোটি টাকা লোপাট করে নিচ্ছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সাবেক ও বর্তমান বেশকিছু কর্মকর্তা। টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা থাকা দেশি-বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজসে কয়েক বছর ধরেই তারা সরকারের টাকা নিজেদের পকেটে ভরছেন। সওজ’র সাবেক সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট কাজি সৈয়দা মমতাজসহ কয়েকটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এই মহাদুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। 

জানা গেছে, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে দেশের ৬৭টি টোল প্লাজা থেকে টোল আদায় করছে সড়ক বিভাগ। বারবার পাইলটিং প্রজেক্টের আড়ালে চলছে টোলের টাকা লোপাটের মহোত্সব। এক বছরে হাজার কোটি টাকারও বেশি লোপাট করে নেয়া হচ্ছে এসব টোল থেকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, টোলের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার এবং ইজারা দেওয়ার মাঝে তিন থেকে ছয় মাসের অন্তবর্তী সময়ে সড়ক বিভাগ নিজ দায়িত্বে টোল পরিচালনা করে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সড়ক বিভাগের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে। সে সময় টোল পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে জনবল নিয়ে তারা এই কাজ করে থাকে।

সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েকটি টোলের কিছু লেন রয়েছে বিশেষায়িত সার্ভিস। দ্রুত পাস হওয়ার জন্য ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ সুবিধার আওতায় বিকাশ, নেক্সাস-পে, রকেট, উপায়সহ স্মার্ট পেমেন্টের মাধ্যমে টোল আদায় করছে সড়ক বিভাগ। নতুন করে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের সাথে আলাপ চলছে সড়ক বিভাগের টোলের টাকা সরাসরি ব্যাংকের জমা নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু এখানেও রয়েছে একটি বড় ফারাক। ব্যাংকগুলো এই টাকা যত সময় সরকারি কোষাগারে জমা না দিবে কোন টাকা সড়ক বিভাগ পাবে না। এটার বিষয় এখনি ভালো করে পদক্ষেপ না নিলে সড়ক বিভাগ বিপাকে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, টোগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ এর আওতায় আনার জন্য গাড়িগুলোকে রেডিও ফিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশনের (আরএফআইডি) ট্যাগ লাগানো প্রয়োজন।  কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে ২০ শতাংশ গাড়িতেও এই ট্যাগের ব্যাবস্থা নেই। যার ফলে আমরা যতই ডিজিটাল ব্যাবস্থায় নিয়ে আসি এটা ছাড়া সচ্ছতা আসবে না।

সড়ক ও সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার শাসনামলের দেড় দশক তত্কালীন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম আর্থিক ও সেবা খাত লুণ্ঠনের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এসবের কয়েকটি হচ্ছে— অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস), ওবায়দুল কাদেরের ‘ঘনিষ্ঠজন’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ হোসাইন জনির ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিডেট’, আমিনুল হক শামীমের ‘শামীম এন্টারপ্রাইজ, মোহাম্মদ কালাম হোসেন মালিকানাধীন ‘ইউডিসি কোম্পানি লি:’, আওয়ামী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক এবং প্রকৌশলী মেহবুব কবির মালিকানাধীন ‘এশিয়ান ট্রাফিক টেকনোলজি লিমিটেড (এটিটি)’ এবং হাসিনার পালিত কসাইখ্যাত (বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় বিচারের মুখোমুখি) জিয়াউল আহসানের ‘পেন্টা গ্লোবাল’। 

এ প্রতিষ্ঠানগুলোই ঘুরেফিরে দেশের ৬৭টি টোলপ্লাজা এবং সড়ক থেকে টোল কালেকশন কব্জায় রেখেছে। আনিসুল হক এবং জিয়াউল আহসান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া প্রায় প্রতিটি কোম্পানির নামে দুদকে অভিযোগ রয়েছে। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের টোলবাবদ প্রাপ্য শত শত কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। তবে এ প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম হচ্ছে ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’।

জুলাই বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে আওয়ামী নেতারা অবৈধভাবে নিজেদের কোম্পানির মাধ্যমে টোল আদায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে নির্বিঘ্নে। এরই মাঝে গত মাসে নতুন করে রেগনাম রিসোর্সকে আত্রাই টোল প্লাজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আত্রাই টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা সওজের নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান সরকারের সঙ্গে বারবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এদিকে নতুন করে আমিনুল হক শামীমের ‘শামীম এন্টারপ্রাইজকে মেঘনা-গোমতী টোলপ্লাজায় টোল আদায়ের কার্যাদেশ দিয়ে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেঘনা-গোমতি টোলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে ফোন করলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সূত্র বলছে, ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর ঠিকাদার কাজ পেয়েছে কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যত কেনাকাটা ও ঠিকাদার নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে, প্রায় সবই প্রশ্নবিদ্ধ। যোগসাজশের ব্যাপক অভিযোগ আছে। এসব চুক্তি পর্যালোচনা করা দরকার।

সড়ক বিভাগ বলছে, অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) এর কাছ থেকে সিন্ডিকেট করে ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম-ইউটিএস’ সফটওয়ার ক্রয় করা হয়। সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম-ইউটিএস’ সফটওয়ার সড়ক বিভাগে ‘আল-আমিন’ সফ্টওয়ার নামে পরিচিত । কম্পিউটার সিস্টেম এনালিস্ট আল- আমিন নিজে এই সফটওয়ার পরিচালনা করে। দেশের ১৭টি টোল ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম-ইউটিএস’ এর আওতায়। “এমআইএস” শাখার ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম-ইউটিএস’ টোল এর যাবতিয় কাজ আল-আমিন ও প্রোগ্রামার কল্পনা আক্তার নিজ হাতে করেন।

যেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে গাড়ির ছবি, টাকার পরিমান মিল নেই, ডাটা মুছে ফেলা হচ্ছে এর পরেও কোন প্রকার কথা বলছেনা আল আমিন বা সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আল আমিন নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে এই সফওয়ার পরিচালনা করেন। সফটওয়ারের ভেতরে কি কাজ হয় বা এখানে কোন ধরনের অসংগতি আছে কিনা সেটার বিষয়ে আল আমিন গং ছাড়া আর কেউ দেখার অনুমতি পান না। এই সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা সরিয়ে নিচ্ছেন আল অমিনসহ একটি চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আল আমিন নিজ এলাকায় তৈরী করেছেন কোটি টাকা মূল্যর বিলাশ বহুল বাড়ি। এছাড়াও নামে বেনামে সম্পদ গড়েছেন এই কর্মকর্তা। 

তথ্য ডিলিট ও টাকার পরিমান কম জমা দেয়ার বিষয়ে কম্পিউটার সিস্টেম এনালিস্ট আল আমিন বলেন, আমাদের কাছ কোন বিষয় অসংগতি লাগলে আমরা সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট টোল প্লাজায় কথা বলি। প্রতিদিন লাখ লাখ তথ্য এখানে জমা হয়। এক মাস পরে তথ্য সেভ রাখা সম্ভব হয় না। যার ফলে প্রতি মাসে ডাটা ডিলিট করে দেওয়া হয়। এতে যদি অন্যায় কিছু হয়ে থাকে তাহলে আমাদের কিছু করার নাই।

ডাটা ডিলিট ও টোলের টাকা কম জমা নেওয়ার বিষয়ে ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম-ইউটিএস’ সফটওয়ারের দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার সিসেস্টম এনালাইসিস আল আমিনের ঘনিষ্ঠজন ও সাবেক সিস্টেম এনালিস্ট সৈয়দা সাজেদা মমতাজের ঘনিষ্ঠ প্রোগ্রামার কল্পনা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এমআইএস শাখা থেকে মনিটর করেছি এবং দেখেছি। আপনাদের তথ্যর সাথে আমাদের কোন তথ্য মিল পাইনি। তিনি বলেন, তবে যদি এটা হয়ে থাকে তাহলে সেটা ওই টোলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বলতে পারবেন। আর কোম্পানিগুলো করলে আমাদের এখান থেকে কিছু করার থাকেনা। আমাদের পক্ষে এতো মনিটরিং করা সম্ভব হয়না। 
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনারা একটা কাজ করতে পারেন আপনাদের একজন করে রিপোর্টার টোলগুলোতে দিয়ে রাখেন তাহলে আর টোল ফাকি দিতে পারবে না। আপনারা মনিটরিং করতে পারবেন। না হয় আপনারা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। তাহলে সকল জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীদের ডেকে বলে দিবে। তাহলে আর কোন পবলেম হবে না।

সাবেক সিস্টেম এনালিস্ট কাজি সৈয়দ মমতাজের সঙ্গে কথা বলতে চাই তার কোন নম্বর আছে কিনা বলা হলে তিনি বলেন না নেই। কিন্তু তার নামে সংবাদ প্রকাশ হবে এ কথা শুনার সাথে সাথে তিনি বলে উঠেন তার নামে কোন দুদকের মামলা নেই তাহলে কেন তার কথা বলছেন। তার বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে বলা হলে তিনি বলেন, উনি চলে যাবার পরে আর তার সাথে কথা হয়না। মানবকণ্ঠের পক্ষ থেকে জানানো হয় এখানে তিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। আমাদের তার ব্যাক্তিগত সম্পদের পরিমান অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এর জন্য তার সাথে কথা বলা জরুরী। এর পরে তিনি বলেন, তার তো এমন কোন সম্পদ নেই তার বাবার দেওয়া চারটি মাত্র ফ্লাট রয়েছে। আর তিনি এখনো ভাড়া বাসায় থাকেন।

দীর্ঘ একযুগ এর বেশি সময় ধরে টোলের এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করেছে সড়ক বিভাগের সাবেক সিস্টেম এনালিস্ট কাজি সৈয়দা মমতাজ। তিনি সড়ক বিভাগের উন্নয়নের থেকে বেশি করেছেন নিজের উন্নয়ন। অনুসন্ধানে ঢাকায় নামে বেনামে বেশ কয়েকটি বাড়ি, ফ্লাট ও প্লটের তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। ধারাবাহিক পর্বে আসছে এসকল কর্মকর্তাদের ব্যাক্তিগত সম্পদের তথ্য।
অভিযোগ আছে, এই খাত থেকে সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করে। অথচ এখানে মাত্র চার জন কর্মকর্তা দিয়ে এতো বড় একটি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়। এখানে প্রতি মাসে বাইরে থেকে লাখ টাকা দিয়ে পরামর্শক ভাড়া করে আনা হলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে জনবল নিয়োগ করা হয় না।

রেগনামের খুঁটির জোর কোথায়: সূত্র বলছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘ঘনিষ্ঠজন’ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ হোসাইন জনির প্রতিষ্ঠান ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’। কোনো কার্যাদেশ ছাড়াই ওবায়দুল কাদের, মির্জা আজম গংয়ের মুখের কথায় কাজে লেগে পড়ে রেগনাম। মৌখিক নির্দেশে ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল থেকে অদ্যাবধি টোল আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেডকে মেঘনা-গোমতী সেতুসহ অনেক সেতুর টোল আদায়ের ‘কার্যাদেশ’ দেয়া হয়। এজন্য হয়নি কোনো টেন্ডার। ধার ধারতে হয়নি কোনো সরকারি ক্রয়-নীতিমালার (পিপিআর)। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দরপত্র ছাড়া নিজেদের পছন্দে ঠিকাদার নিয়োগে লাভবান হয়েছে কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান। সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তত্কালীন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। লোকসান হয়েছে দেশের মানুষের। তাঁদের এখন ঋণের বোঝা টানতে হচ্ছে, অন্যদিকে চলাচলে খরচ পড়ছে বেশি। অবকাঠামোগুলো থেকে যে আয় হচ্ছে, তার বড় অংশ নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
সড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, একটি অ্যাপভিত্তিক টোল আদায়ের জন্য বর্তমান সময়ে কিছুটা কম দূর্নীতি হচ্ছে। এর আগে প্রতিটি কোম্পানি আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের মত অ্যাপ বানিয়ে টোল আদায়ের কাজ করতো। সে সময় তারা সড়ক বিভাগকে যে টাকা দিত সেটাই মেনে নেওয়া লাগতো।

এছাড়াও পদ্মা সেতু, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়ে এই তিন অবকাঠামো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন। অভিযোগ আছে, তত্কালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সেতু বিভাগের তখনকার সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে ঠিকাদারদের সখ্য ছিল। দুজনের তত্পরতায় আওয়ামী লীগ সরকার দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়। খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন। নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার এসেছে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের মাধ্যমে। এখানে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। 

এসব বিষয়ে রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, মেঘনা গোমতিতে কাজ পাওয়ার পরেও টোল আদায় না করার জন্য হুমকি দিয়েছিল এমপি শামীম ওসমান। তিনি সে সময় আমাদের হুমকি প্রদান করে বলেছেন- তোমরা টোল আদায় করতে গেলে তোমাদের কোম্পানির লোক জীবিত থাকবে না। তোমরা কি করে আমার এলাকায় টোল আদায় করও সেটা আমি দেখে নিব। পরে এই বিষয়টি ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়। এর বিনিময়ে আমরা ওবায়দুল কাদেরের তিন হাজার লোককে আমাদের কোম্পানিতে নিয়োগ দেওয়া লাগছে। যাদের বিনা কাজে ৩ বছর যাবত্ বেতন দিয়ে আসছি আমরা। ৫ তারিখের পরে তারা আমদের এখান থেকে চলে গেছে। এদের আমরা খুজছি।