Image description

ময়মনসিংহ নগরী ও এর আশপাশের এলাকায় ইদানীং সাধারণ মানুষের মাঝে এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘গ্যাস লিকেজ’। আবাসিক ভবনের জরাজীর্ণ পাইপলাইন থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক এলাকা বা কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গতকাল শুক্রবার নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেনবাড়ি এলাকায় গ্যাস লিকেজের কারণে এক ভয়াবহ আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। রাতে বিশ্বকাপ খেলা দেখার সময় গ্যাসের গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান রহমান মুন্না ৯৯৯ এবং ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করেন। ফায়ার সার্ভিস থেকে আগুন লাগলে আসার কথা বলা হলে, বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে জানানো হয় এবং তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের জরুরি টিমের লোকজন এসে রাস্তা খনন করে লিকেজ হওয়া লাইন সংস্কারের কাজ শুরু করেন। 

তিতাস গ্যাস ময়মনসিংহের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার সাইফুর রহমান জানান, রাত ৩টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাইনের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখতে পান এবং পরে তাদের ইমার্জেন্সি টিম এসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে এলাকাটিকে রক্ষা করে। মূলত পাশের একটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ভবন ধসে পড়ায় এই লাইনে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাজ্জাত হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. বুলবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবন মালিক মনির কোনো অনুমতি না নিয়ে এবং নিয়মনীতি অমান্য করে ড্রেন বন্ধ করে এই অপরিকল্পিত ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন, যার দেয়াল গতকাল ভেঙে পড়ায় গ্যাসের লাইনটি লিকেজ হয়; তারা এই নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের সঠিক বিচার ও লাইনগুলো নিয়মিত পরীক্ষার দাবি জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকনুজ্জামান সরকার জানান, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সংস্কারকাজ চালানো হচ্ছে এবং কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। 

এর আগে জুন মাসের শেষভাগে নগরীর গোলপুকুর পাড় এলাকায় একটি ওয়ার্কশপে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় বিকট বিস্ফোরণে কোনো অগ্নিকাণ্ড না ঘটলেও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাসকষ্ট ও বমিভাব নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৯ জন ভর্তি হন, যাদের মধ্যে একজনকে আইসিইউতে নিতে হয়েছিল। এছাড়া ভালুকা ও ত্রিশালের মতো শিল্পাঞ্চল এবং বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনেও রাইজার লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সরেজমিনে ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকার অনেক সরবরাহ লাইন অত্যন্ত পুরোনো, মরিচা ধরা এবং নিয়মিত তদারকিহীন। পাশাপাশি অনেক জায়গায় নিম্নমানের ফিটিংস ব্যবহার করে অবৈধ সংযোগ নেয়া হয়েছে। 

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই নিত্যদিনের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ লাইনের বিরুদ্ধে দ্রুত চিরুনি অভিযান চালানো এবং যত্রতত্র সুরক্ষানীতি না মেনে পুরোনো সিলিন্ডার কাটার মতো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি।