Image description

নতুন নিয়োগ পাওয়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের যোগদান উপলক্ষ্যে ডাকা পরিচালনা পর্ষদের সভা গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের তীব্র আন্দোলনের মুখে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সশরীরে সভা আয়োজনে ব্যর্থ হয়ে পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে অনলাইনে সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিক্ষোভকারীদের চাপের কারণে সেটিও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

আজ (সোমবার) দিনভর উত্তেজনা, পুলিশ-গ্রাহক সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের মধ্যেই ভেস্তে যায় ব্যাংকটির পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভা। রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ঘিরে দিনভর উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও পুলিশ-গ্রাহক সংঘর্ষের মধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার অবস্থান নেওয়ায় সশরীরে সভা আয়োজন সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অনলাইন সভার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন। এমনকি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কক্ষের সামনেও বিক্ষোভ করেন তারা। ফলে রাত ৮টা পর্যন্ত কোনোভাবেই পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে সকালে ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। তবে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হলেও পরে পুনরায় সংগঠিত হয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করার দাবিও জানান।

গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারে শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানান।