মেক্সিকোর দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে ৬.৫ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে রাস্তাঘাট, হাসপাতালসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল গুয়েরেরো রাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪২০টি পরাঘাত (আফটারশক) রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৪.৭।
ভূমিকম্পে গুয়েরেরো রাজ্যে একটি বাড়ি ধসে পড়ে ৫০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের গভর্নর ইভেলিন সালগাদো। অন্যদিকে, মেক্সিকো সিটিতে আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে দ্রুত নামার সময় হার্ট অ্যাটাকে বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
গুয়েরেরো রাজ্যের বিভিন্ন মহাসড়কে ভূমিধস ও গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বেশ কিছু হাসপাতাল ও সরকারি ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকো সিটির ন্যাশনাল প্যালেসে নতুন বছরের প্রথম নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। সিসমিক অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথেই তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন এবং সাংবাদিকদের নিয়ে ভবন ত্যাগ করেন। পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হলে তিনি পুনরায় সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন।
মেক্সিকো সিটিতে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল প্রচণ্ড। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভটি কম্পনের সময় দুলতে দেখা গেছে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উঁচু ভবনগুলোর দুলুনি এবং দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ট্রাফিক লাইট ভেঙে পড়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
মেক্সিকোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও রানওয়ে সচল থাকায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments