লন্ডনের রাস্তায় সুদানে চলমান যুদ্ধ নিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন দুবাইয়ের শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম। আমিরাতের বিরুদ্ধে সুদানের সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাঁর সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক সুদানি নাগরিক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লন্ডনের নাইটসব্রিজ এলাকায় মাকতুম ও তাঁর সফরসঙ্গীদের উদ্দেশে চিৎকার করে প্রতিবাদ করছেন ওই ব্যক্তি। তিনি সুদানে রক্তপাত বন্ধের দাবি জানান এবং আমিরাতের বিরুদ্ধে সাধারণ সুদানি নাগরিকদের হত্যায় সহায়তার অভিযোগ তোলেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মাকতুমের সফরসঙ্গীদের একজন প্রতিবাদকারীর দিকে এগিয়ে গিয়ে উত্তেজিতভাবে কথা বলছেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রতিবাদকারী সুদান সংকটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
সুদান সংঘাতে আমিরাতের ভূমিকা
সংযুক্ত আরব আমিরাত সুদানের চলমান সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্মকর্তারা দেশটির বিরুদ্ধে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
লন্ডনে আমিরাতের শীর্ষ নেতারা
এর আগে আমিরাতি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের জুমেইরা কার্লটন টাওয়ার হোটেলে মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুমের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকটিকে দুই নেতার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তবে একই সময়ে লন্ডনের রাজপথে সুদানের যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েন দুবাইয়ের শাসক।
মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুমকে ঘিরে এর আগেও বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ আদালতের বিভিন্ন মামলায় তাঁর দুই কন্যাকে আটকে রাখার অভিযোগ এবং তাঁর সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার ফোন হ্যাকিংয়ের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এসএস




Comments