ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধ এখন ‘শেষ প্রান্তে’ পৌঁছেছে এবং ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে তাঁর এমন বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরাসরি আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান এখনো সতর্ক। ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি নাকচ বা গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছেন। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো কূটনৈতিক উদ্যোগে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকতে হবে।
এরই মধ্যে বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৈঠকে ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করে কার্যকর আলোচনায় ফেরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকের পর আরাগচি বলেন, ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে দেশের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখে—এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য তেহরানের দরজাও খোলা রয়েছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনার দাবি এবং ইরানের সতর্ক অবস্থান—দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার পথ কতটা এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
এসএ




Comments