বিশ্বের শীর্ষ ধনী—টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও নিউরালিকের শীর্ষ কর্মকর্তা শিভন জিলিসের সঙ্গে তার সম্পর্কের আকস্মিক ইতি ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে শিভন জিলিস নিজেই এই বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ করেছেন।
কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা নোটিশ ছাড়াই মাস্ক তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বলে জানান জিলিস। বিচ্ছেদের মাত্র কিছুদিন আগেও তাদের মধ্যে অত্যন্ত স্নেহাভাজন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বেশ কষ্ট পেয়েছেন। তবে সবকিছুর পরেও তারা তাদের চার সন্তানের কথা ভেবে ভালো বন্ধু ও সহ-অভিভাবক হিসেবে থাকতে চান বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টেক জায়ান্ট ইলন মাস্কের প্রেম জীবন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতিহাস বরাবরই বেশ নাটকীয় ও বর্ণাঢ্য। প্রযুক্তি জগতের এই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের জীবন জুড়ে রয়েছে একাধিক আলোচিত সম্পর্ক ও বিয়ে। কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় জেনিফার গুইন নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার প্রথম প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়।
এরপর ২০০০ সালে কুইন্স ইউনিভার্সিটিরই শিক্ষার্থী ও লেখক জাস্টিন উইলসনকে বিয়ে করেন মাস্ক। আইভিএফ বা কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ঘরে বেশ কয়েক সন্তান জন্ম নেয়। তবে অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ২০০৮ সালে তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরপরই ব্রিটিশ অভিনেত্রী তালুলা রিলে-র সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান মাস্ক। ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর এই জুটির সম্পর্ক বারবার জোড়া লাগা ও ভাঙার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১২ সালে প্রথমবার বিচ্ছেদ এবং ২০১৩ সালে পুনরায় বিয়ের পর শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে তাদের চূড়ান্ত আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
তালুলার সঙ্গে সম্পর্ক চুকে যাওয়ার পর হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ডের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল সম্পর্কে জড়ান মাস্ক। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের এই সম্পর্কটি বিভিন্ন ওঠানামার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়।
এরপর ২০১৮ সালে কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী ক্লেয়ার বাউচার জীবনসঙ্গী বানান তিনি। খামখেয়ালি জীবনযাত্রা ও তিন সন্তানের জননী এই শিল্পীর সঙ্গেও পরবর্তীতে মাস্কের দূরত্ব তৈরি হয়ে আইনি জটিলতা সামনে আসে।
এরই মাঝে ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসে যে মাস্কের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান নিউরালিকের শীর্ষ কর্মকর্তা শিভন জিলিসের সঙ্গে তার যমজ সন্তানের জন্ম হয়েছে। পরবর্তীতে এই জুটির ঘরে সব মিলিয়ে মোট চার সন্তানের জন্ম হয়। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন গভীরভাবে মিশে থাকা সেই সম্পর্কের প্রায় চার বছর পর এবার এল এই আকস্মিক বিচ্ছেদের খবর।
একাধিক নারীপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সন্তানদের নিয়ে ইলন মাস্কের এই বর্ণিল ব্যক্তিগত অধ্যায় প্রযুক্তি দুনিয়ায় সবসময়ই আলোচনার খোরাক জুগিয়ে আসছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট, কোয়ার্টজ ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এসএস




Comments