দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে ফের হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে দেশটির উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহ শহরে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।
তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানা যায়নি। বিস্ফোরণগুলোর সঙ্গে মার্কিন সামরিক অভিযানের সরাসরি যোগসূত্রও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হয়েছিল এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়েছে। একই সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই চলছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত আকারে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। তাঁদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা থেকে ইরানকে বিরত রাখাই এসব অভিযানের উদ্দেশ্য।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় ইরানও। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিএইচ


Comments