Image description

চলমান বিশ্বকাপে রেফারিং এবং ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে লাল কার্ডের শাস্তি নিয়ে ফিফার ‘দ্বৈত নীতি’ ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই ধরনের অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় মাফ পেলেও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়ের সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।

ঘটনার শুরু শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে। বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও দৃশ্যপট বদলে যায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে। খবর রটেছে, হোয়াইট হাউস থেকে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতিকে ফোন করেন। এরপরই ফিফা তাদের ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে বালোগানের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করে, ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি।

ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন ইংলিশ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা। বালোগানের ঘটনার উদাহরণ টেনে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আপিল করলেও ফিফা তা নাকচ করে দেয়। উল্টো ফাউলের ধরন বিচার করে কোয়ানসার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দুই ম্যাচ করা হয়েছে।

এই বৈষম্য নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। তিনি কৌতুক করে বলেন, ‘হ্যারি কেইনকে বলব ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে, যাতে কোয়ানসার লাল কার্ডটাও বাতিল করা হয়।’

একই অপরাধে বালোগানের ক্ষেত্রে ফিফা ‘শাস্তি স্থগিত’ করার নজির দেখালেও কোয়ানসার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থায় কি তবে খেলার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবই বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে? ট্রাম্পের ফোনকলেই কি বদলে গিয়েছে ফিফার নিয়ম? এই বিতর্ক এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর