Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর উভয় পক্ষই গুরুত্বারোপ করেন।

তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

সফর চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সার্জিও গর বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) দেশটির জন্য ভ্রমণ সতর্কতার স্তর (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) লেভেল-৩ থেকে কমিয়ে লেভেল-২ এ নামিয়ে এনেছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতার এই স্তর কমানোকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘দারুণ খবর’ বলে অভিহিত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) সার্জিও গর কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এবং মানবিক সেবায় নিয়োজিত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই সার্জিও গর বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে আসছেন। তিনি তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরবর্তী বৈঠকগুলো নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সার্জিও গরের এই সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর