মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন—এ নিয়ে দলটির ভেতরে আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের নামই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘিরে আলোচনা চলছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ভেতরে ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনাই বেশি বলে আলোচনা রয়েছে।
ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে দলীয় পদ ছাড়তে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তার উত্তরসূরি হিসেবে রিজভী আহমেদের নাম সামনে আসছে। দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা রিজভীর তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
দলীয় নেতাদের অনেকে মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের দুর্দিনে ভূমিকার কারণে মহাসচিব পদে রিজভী সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত রীতিতে সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবকে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিবেচনা করার নজিরও রয়েছে।
দলের সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুলের মতো রিজভীকেও প্রথমে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।
তবে মহাসচিব পদ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই তিনি কাজ করছেন। দল তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।
এর আগে সরকার গঠনের আগের আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিল। বর্তমানে তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় সাংগঠনিক কাজে রিজভীর তুলনায় তাদের ব্যস্ততা বেশি বলে মনে করছেন দলের অনেকে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা রিজভী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৮৪ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন।
দলের দুঃসময়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছেও রিজভীর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার ও মামলা মোকাবিলা করেও তিনি দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে রিজভীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ মহাসচিব হিসেবে তাকে এগিয়ে রাখছে।
তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকেই আসবে। ফলে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।
এসএস




Comments