Image description

খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব ফেরিঘাট সংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক নির্মাণের সময় ক্ষতিপূরণ নিয়েও প্রভাবশালী একটি মহল পুনরায় সরকারি জমিতে পাকা ও আধাপাকা ঘর নির্মাণ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজুয়া বাজার থেকে লাউডোব বাজার অভিমুখে লাউডোব স্লুইসগেট এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে একের পর এক কাঁচা ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অভিযোগ রয়েছে, আগে সড়ক নির্মাণের সময় এসব জায়গা ছেড়ে দেওয়ার শর্তে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলেন দখলদাররা। কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে আবারও ওইসব জায়গায় নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিহার মন্ডল, বিমল কবিরাজ, বিদুষ কয়াল, অনুপ সরদারসহ আরও কয়েকজন সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম জোয়ার্দারসহ কয়েকজন জানান, রাস্তার দুই পাশের এই জমিগুলো সরকারের একরভুক্ত খাস জায়গা। রাস্তা নির্মাণের সময় দখলদাররা ক্ষতিপূরণ নিলেও সুযোগ বুঝে আবারও যে যার মতো পজিশন নিয়ে ঘর নির্মাণ করেছেন। এতদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাউডোব ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান নিহার মন্ডল বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে রেকর্ডিও সম্পত্তির মাথায় আমি একটি দোকান ঘর নির্মাণ করেছি। তবে কিছুটা সরকারি জায়গা হয়তো নেওয়া হয়েছে। সরকার যখন চাইবে তখন জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও জানান, বাজারের অন্য দখলদাররাও ক্ষতিপূরণ নেওয়ার পর পুনরায় ঘর তৈরি করেছেন।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সড়কটি দখলমুক্ত করতে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর