ছাত্রলীগ করা অপরাধ হলে সারজিস আলমও ভাইও অপরাধী বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসান। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘পূর্বে ছাত্রলীগ করার কারণে যদি একটা মানুষ অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তো আমাদের যে সকল মূল সমন্বয়কারী ভাইয়েরা ছিলেন, তাদের মাঝে সারজিস আলম ভাই; উনিও একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাহলে সারজিস আলম ভাই নিজেও অপরাধী।
সারজিস আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
মাহদী বলেন, ‘শুধু একজন না, আমি অসংখ্য মানুষকে এরকম দেখাতে পারবো এবং বর্তমানে হবিগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে একটা ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে। যারা নিরপরাধ মানুষ, কিন্তু তারা একটা সময় ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই যে ট্যাগিং-এর রাজনীতি; ডেভিল বলে, ডেভিল আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তো ওই জায়গা থেকে একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমরা যারা নেতৃত্ব দিয়েছি, আমরা অন্তত এটা মানতে পারি না।’
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। পরে গতকাল শনিবার তাকে পুলিশ আটক করে। তার আটকের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে রাখেন মাহদীর অনুসারীরা।
জানা গেছে, সন্ধ্যার পর মাহদীর নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকে মাহদীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন মাহদীর অনুসারীরা। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ পুলিশ মাহদী হাসানকে আটক করেছে। আটকের পর কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহদীর বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, থানার ভেতর ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।
মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আন্দোলন করে গভর্নমেন্ট রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে? আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।’
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ ছাত্রলীগকর্মী এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল থানায় গিয়ে নয়নকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন মাহদী। পরে চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
জেলার পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি এবং তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেছি। এ ছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, নয়ন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিল, এসব ছবি ও ভিডিও প্রমাণাদি তারা এনেছেন।’
আটক নয়নের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সে একসময় মনে হয় ছাত্রলীগ নেতা ছিল, তবে এখন নেই।’




Comments