Image description

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জাহিদ হাসান (২৭) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ সময়েও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন না হওয়ায় ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পিয়ারাতলা গ্রামের হারু শাহের মাজার সংলগ্ন একটি ঘাসের জমি থেকে জাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাহিদ কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

জাহিদের বড় ভাই ও মামলার বাদী ইনামুল বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ বারবার বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি। ১৮ দিন হয়ে গেলেও কেন কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিহতের ফুফাতো ভাই আব্বাস আলী অভিযোগ করে বলেন, “কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে হয়তো তদন্ত থমকে আছে এবং খুনিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছে। আমরা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত এই হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি জানাই।”

এ বিষয়ে জীবননগর-দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনারুল কবির জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাহিদের এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।

মানবকণ্ঠ/ডিআর